চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতল ভারত। রবিবার দুবাইয়ের মাঠে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারাল তারা। তবে যতটা সহজে জেতা উচিত ছিল, তা হল না। নিউ জ়িল্যান্ডও লড়াই করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারল না। অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হলেন রোহিত শর্মারা। ২৫ বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারতকে। সেই হারের বদলা নিলেন রোহিতেরা। গত বছর জুন মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত।
দুবাইয়ে রবিবার ভারতের দিন শুরু হয়েছিল টস হারা দিয়ে। টানা ১২ ওয়ান ডে ম্যাচে টস হারলেন রোহিত। প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ভারতের পেসাররার ব্যর্থ। তবে ভেল্কি দেখালেন স্পিনাররা। বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, অক্ষর পটেল ও রবীন্দ্র জাডেজা - চার স্পিনার মিলে ৩৮ ওভারে খরচ করলেন মাত্র ১৪৪ রান। তুলে নিলেন ৫ উইকেট। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে নিউজ়িল্যান্ড তুলেছিল ২৫১/৭। আধুনিক ক্রিকেটে ওয়ান ডে-তে যে রান জলভাত। যদিও দুবাইয়ে ছবিটা আলাদা। বল পড়ে থমকে ব্যাটে আসছে। স্পিনাররা ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। এই উইকেটে শট খেলাই কঠিন। ক্রিকেট পণ্ডিতরা বুঝে গিয়েছিলেন, ২৫২ তাড়া করতে নেমে টিম ইন্ডিয়ার লড়াই সহজ হবে না।
পেসারদের কারণে ভারতের লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে গেলেও শুরুটা দুর্দান্ত করেন রোহিত শর্মারা। ট্রেডমার্ক রোহিত স্টাইলে খেলতে থাকেন ভারত অধিনায়ক। শুভমন গিল সেরকম ছন্দে না থাকলেও রোহিত কার্যত একাহাতে ইনিংস টানছিলেন। দু'জনে মিলে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রান তুলে ফেলেন। অর্ধশতরান পূরণ করে ফেলেন রোহিত। বিনা উইকেটে ১০০ রানের গণ্ডিও পেরিয়ে যায় ভারত।
ইতিহাসে প্রথমবার পরপর দুটি ও ১২ বছর পর আইসিসি ট্রফি জিতল ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল। এতদিন পর্যন্ত কখনও সিনিয়র পর্যায়ে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল পরপর দুটি আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। সেটাই এবার করে দেখালেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজারা। তাঁরা ২০২৪ সালের ২৯ জুন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। আর ২০২৫ সালের ৯ জুন জিতলেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সেইসঙ্গে গড়ে ফেললেন ইতিহাস। সেইসঙ্গে আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রতিটি মহাদেশের দেশকে হারানোর নজির গড়ে ফেলল।