আরও দুই মাস ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে মায়ানমারে ! সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদ জেস ফনিক্স


 মায়ানমারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পটির শক্তি ছিল ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান। এমনই তথ্য জানিয়েছেন আমেরিকার ভূতত্ত্ববিদ জেস ফনিক্স। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মায়ানমারের ভূমিকম্প যে পরিমাণ শক্তি নির্গত করেছে, তা প্রায় ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান।


ভূতত্ত্ববিদরা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী আরও অন্তত দু’মাস মায়ানমার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকবে। জেস ফনিক্স জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে মায়ানমারের অবস্থান। এই দুটি প্লেটের ধীর গতির স্থানান্তরের কারণেই ভয়াবহ ভূমিকম্পটি হয়েছে। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া আরও দুই মাস পর্যন্ত চলতে পারে, ফলে মায়ানমারকে নতুন ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যেই থাকতে হবে।


সরকারি কর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজারের বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৩৭৬ জনকে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। মায়ানমারে একের পর এক ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ১৬তম ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৭। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য ভারত জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (NDRF) এর একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছে।


তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে একের পর এক বহুতল। মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত ছবির মতো সাজানো শহর। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ভয়াবহ ভূমিকম্পে মায়ানমারে মৃত্যু মিছিল। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৪৪। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও অনেকের চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা, ফলে আরও বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা। আহত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি। মায়ানমারে ভূমিকম্পের জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবেশী তাইল্যান্ডও। জোরালো কম্পনে রাজধানী ব্যাঙ্ককে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ ৩০ তলা একটি বাড়ি।


Previous Post Next Post

نموذج الاتصال