সোনা পাচারের অভিযোগে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে গ্রেফতার প্রখ্যাত কন্নড় অভিনেত্রী। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে রানিয়া রাওকে। তাঁর কাছ থেকে ১৪.৮ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস বিমান সংস্থার একটি বিমান থেকে নামতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা। অভিনেত্রীকে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর গায়ে ও জামাকাপড়ের মধ্য থেকে সোনা উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর কন্নড় অভিনেত্রীকে আর্থিক অপরাধ আদালতে তোলা হয়। আদালত রানিয়া রাওকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, রানিয়া কর্নাটকের এক ডিজিপি পদমর্যাদার আইপিএস অফিসারের কন্যা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাই থেকে ফিরতি পথে বিমানবন্দরে বিনা চেকিংয়েই বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন রানিয়া রাও। সেই সময় ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট পুলিশ স্টেশনের এক কনস্টেবল তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে ডিআরআই গোয়েন্দাদের কাছে রানিয়াকে নিয়ে আগের থেকেই খবর ছিল। এই আবহে তাঁকে ধরে ফেলেন গোয়েন্দারা। রানিয়া নাকি এই সোনা তাঁর পোশাকের পাশাপাশি শরীরেও লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে রানিয়ার বেঙ্গালুরুর বাড়িতেও ডিআরআই তদন্তকারীরা তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন।
গত এক বছরে ৩০ বার দুবাই ভ্রমণ করেছেন বলে জানা গেছে। তার প্রতিটি ভ্রমণে তিনি কেজি কেজি সোনা নিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্র অনুসারে, রাওকে প্রতি কেজি চোরাচালান করা সোনার জন্য ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল । এভাবে, তিনি প্রতি ভ্রমণে প্রায় ১২-১৩ লক্ষ টাকা আয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ১৫ দিনে চার বার দুবাই যাতায়াত করেছেন অভিনেত্রী। এতেই প্রথম সন্দেহ জাগে আধিকারিকদের। সেই মতোই স্ক্যানারে ছিলেন রান্যা। মঙ্গলবার রাতে এমিরেটসের বিমানে বেঙ্গালুরু নামতেই তাঁর তল্লাশি নেওয়া হয়। তাতেই ফাঁস সমস্ত রহস্য। অভিনেত্রীকে এই কাজে সাহায্য করার জন্য কনস্টেবল বাসবরাজা রাও-কেও আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিনেত্রীর দাবি, তিনি ব্ল্যাকমেলের শিকার। ব্ল্যাকমেলের কারণেই এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।