'যদি আমেরিকা যুদ্ধই চায়, তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত' যুদ্ধের হুঙ্কার চিনের


 ফেন্টানিল ইস্যুতে কানাডার পাশাপাশি চিনের ওপরও শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চিনা দূতাবাস বলল, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে চিন যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। চিন বলেছে, যদি আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করতে চায়, তাহলে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। X-তে একটি পোস্টে চিনের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে যে চিনা আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর জন্য ফেন্টানাইলকে একটি তুচ্ছ অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা। বেজিং বলেছে, 'যদি আমেরিকা যুদ্ধই চায়, তবে শুল্ক যুদ্ধ হোক, বাণিজ্য যুদ্ধ হোক বা অন্য কোনও ধরনের যুদ্ধ, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তু।'


উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ তুলেছিলেন চিন ফেনটানিল সংকট মেটাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করছে না। তিনি বলেছিলেন, ফেনটানিল তৈরিতে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক রফতানি কিছুতেই বন্ধ করছে না চিন। ফেনটানিল মেডিক্যাল কাজে ছাড়াও মাদক হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে আমেরিকায়। আফিমের আড়ক হিসাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অনেকের মৃত্যুও ঘটে বলে চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ট্রাম্পের। যদিও চিনা মুখপাত্রের দাবি, আমেরিকা নিজেই ওপিওড সমস্যার জন্য দায়ী।


চিনা বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, 'ফেন্টানিল সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী, অন্য কেউ নয়। আমেরিকান জনগণের প্রতি মানবতা ও সদিচ্ছার চেতনায় আমরা এই সমস্যা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে এবং শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে চিনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের সাহায্য করার জন্য তারা আমাদের শাস্তি দিচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যার সমাধান হবে না এবং মাদকবিরোধী সংলাপ ও সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।' এদিকে আমেরিকার শুল্ক আরোপের পালটা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য এবং বিফের ওপরে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে চিন। 


এদিকে শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তোপ দেগেছেন কানাডা প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের উদ্দেশ্য হচ্ছে কানাডার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে কানাডা দখল সহজ হয়ে যাবে মনে করেই শুল্ক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, অবৈধ অভিবাসন ও ফেন্টানিল পাচার নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগের কারণে কানাডা থেকে জ্বালানি আমদানিতে ১০ শতাংশ এবং অন্য সবকিছুর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال