SSC-র পুরো প্যানেল বাতিল করল দেশের শীর্ষ আদালত, ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল


 হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। SSC-র পুরো প্যানেল বাতিল করল দেশের শীর্ষ আদালত। নির্দেশ দেওয়া হল, 'যাঁদের চাকরি বাতিল হল, তাঁদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে।’ গত বছর এপ্রিল মাসে এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। 


গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের সমস্ত নিয়োগ, অর্থাৎ ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি যায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। সেই রায়ই বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টে।


এ দিন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার পর্যবেক্ষণ, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব নয়। যাঁরা দোষী নন, তাঁরা নতুন করে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, যাঁরা অবৈধ ভাবে চাকরি পেয়েছেন এবং দোষী চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাবে সিবিআই। যাঁরা আগে অন্য সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন এবং তা ছেড়ে এসএসসির চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা পুরনো দপ্তরে ফিরে যেতে পারবেন। তিন মাসের মধ্যে তাঁদের স্থানান্তরের আবেদন করতে হবে। এই নির্দেশের পরে যে শূন্যপদগুলি তৈরি হলো সেগুলিতে আগামী ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলতে হবে, সুপ্রিম নির্দেশ এমনটাই। এ ছাড়াও ক্যাবিনেটের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশও বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত।


এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে এসএসসি মামলার শুনানি শেষ হয়। রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল আদালত। বুধবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আজ ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।



শুনানির শেষ দিন পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই মামলায় আসল তথ্য জানা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু আসল উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট উদ্ধার করা যায়নি, তাই কোন ওএমআর শিটকে আসল বলে ধরে নেওয়া হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসএসসিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, ‘র‌্যাঙ্ক জাম্প’ এবং প্যানেল-বহির্ভূত নিয়োগের তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। কিন্তু ওএমআর শিট কারচুপির তথ্য কমিশনের কাছে নেই।


Previous Post Next Post

نموذج الاتصال