14.2 C
New York
Monday, March 4, 2024

Buy now

spot_img

ছট পূজা

তনুশ্রী কয়াল, স্পেশাল রিপোর্ট ডেস্ক :ছট পূজা হল হিন্দুদের উৎসব যা মূলত চারদিন ধরে হয়। এই উৎসব পশ্চিমবঙ্গ সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হয়ে থাকে। এই উৎসব বিহার,উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং নেপালে উদযাপিত হয়। এই উৎসবে সূর্যদেবতার পূজা করা হয় এবং তাঁর আশীর্বাদ চাওয়া হয়। কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে হয় ছট পুজো ৷ ছট পুজো হল আদতে সূর্যদেব এবং তাঁর পত্নী ঊষা ও প্রত্যুষাদেবীর পুজো।  বৈদিক যুগ থেকে সূর্যদেবতার পুজো চলে আসছে। তাহলে নাম কেন ছট পুজো? আসলে ছয় কথাটাকে নেপাল বা উত্তর ভারতের অনেকে ছট বলে থাকেন। পুজোটি ষষ্ঠীর দিন হয়, সেখান থেকেই ছট শব্দের উৎপত্তি।                                                                                                                                                                                                                                        আর তা থেকেই ছট পুজো। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র ও সীতাদেবী শুক্ল ষষ্ঠীর দিনেই সূর্যদেবের আরাধনা করেছিলেন। আবার দ্বাপরে সূর্যপুত্র কর্ণ অঙ্গদেশের রাজা ছিলেন। তিনিও সূর্যদেবের পুজো করেন ৷ দীপাবলীর ঠিক ৬ দিনপরে কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে এই পুজো করা হয়। তাই এর নাম ছট পুজো। আবার আরেক পৌরাণিক মতে, সূর্যদেবের ছোট বৌ ঊষাকে এই পূজায় ‘‘ছোটি মইয়া” হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।সেখান থেকেই ছট পূজার নামটি প্রচলন হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, বৈদিক যুগের আগে থেকেই ছট পুজো বা সূর্য উপাসনার চল ছিল। মহাভারতে পঞ্চ পাণ্ডব এবং দ্রৌপদী পালন করেছিলেন এই উৎসব। এমনকি, রামায়ণেও আছে রাম সীতার ছট পুজোর কথা। যাঁরা ছট পুজো করে থাকেন, তাঁরা ভাইফোঁটার পর থেকেই টানা নিরামিষ খান। এই নিরামিষে পেঁয়াজ রসুনও জায়গা পায় না। পুজোর দু’দিন আগে লাউয়ের যেকোনও পদ খেতে হয়। পুজোর ঠিক আগের দিন ‘খারনা’ নামের একটি নিয়ম পালিত হয়।এই সময় সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে পায়েস, লুচি, কলা অর্পণ করা হয়। ছট পুজোর ডালাতে থাকে হলুদ গাছ, আম পল্লব, নারকেল, কলার কাঁদি, বিভিন্ন ফল, ঠেকুয়া ও খাস্তা টিকরি। নদীর ঘাটে বসে একমনে সূর্যদেবের আরাধনা করার পর নামতে হয় কোমর জলে। নদীর বুকে দাঁড়িয়ে পুজোর ডালা সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্পণ করে, ধূপ ধুনো দেখিয়ে হয় আরতি। অবশেষে পরিবারের সকলের নাম করে একটা একটা করে প্রদীপ ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীর বুকে। এটাই এই পুজোর নিয়মরীতি।ডালার প্রসাদ বাড়িতে নিয়ে যান সকলে।বাড়ি ফেরার পরও কিন্তু উপোস ভাঙা হয় না। পরের দিন ভোরে আরও একবার সূর্য পুজোর জন্য ঘাটে যেতে হয়। যাঁরা মানত করেন তাঁরা বাড়ি থেকে ঘাট পর্যন্ত দণ্ডি কাটেন। প্রণাম করা হয় উদয়গামী আর অস্তগামী সূর্য ও তাঁর স্ত্রী ঊষা আর প্রত্যুষাকে। তারপরেই ব্রতীরা ভঙ্গ করেন উপবাস। তারা বিশ্বাস করেন, ছটপুজোয় সব ইচ্ছা পূর্ণ করেন সূর্যদেব। সংসারের মঙ্গলকামনায় গৃহিণীরাই এই পুজো করে থাকেন। কলা-সহ বিভিন্ন রকম ফল, ঠেকুয়া, চালের লাড্ডু হল পুজোর প্রসাদ। ছট পুজোর শেষ দিনে ‘মৎস্যমুখী’ অনুষ্ঠান হয় অনেক পরিবারে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

[td_block_social_counter facebook="tagdiv" twitter="tagdivofficial" youtube="tagdiv" style="style8 td-social-boxed td-social-font-icons" tdc_css="eyJhbGwiOnsibWFyZ2luLWJvdHRvbSI6IjM4IiwiZGlzcGxheSI6IiJ9LCJwb3J0cmFpdCI6eyJtYXJnaW4tYm90dG9tIjoiMzAiLCJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBvcnRyYWl0X21heF93aWR0aCI6MTAxOCwicG9ydHJhaXRfbWluX3dpZHRoIjo3Njh9" custom_title="Stay Connected" block_template_id="td_block_template_8" f_header_font_family="712" f_header_font_transform="uppercase" f_header_font_weight="500" f_header_font_size="17" border_color="#dd3333"]
- Advertisement -spot_img

Latest Articles